ত্রাটক সাধনা: একাগ্রতা, ধ্যান ও আত্ম-অনুশীলনের প্রাচীন পদ্ধতি
ত্রাটক সাধনা: একাগ্রতা, ধ্যান ও আত্ম-অনুশীলনের প্রাচীন পদ্ধতি বিষয়ে মন্ত্রগুরু এ্যাসোসিয়েশনের প্রাচীন অভিজ্ঞতা, আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যবহারিক নির্দেশনার আলোকে প্রস্তুত প্রবন্ধ।
আমাদের সকলের মাঝেই রয়েছে আত্ত্ব অলৌকিক সুপার ন্যচেরাল কিছু পাওয়ার যা আমরা সাধারন ভাবে বুঝতে না পারলেও জীবনের কোন না কোন সময় তা ঠিকই উপলব্ধি করতে পারি, বিশেষ করে আমরা যখন অবচেতন হৃদয়ে বা অন্যমনষ্ক ভাবে থাকি তখনি অনাকাঙ্খীত ভাবেই অনেক সময় আমাদের সাথে কিছু ঘটে যায় যা আমরা সেই মুহুর্তে তো আশ্চার্য্য জনিত হই কিন্তু পরক্ষনেই তা বেমালুম ভুলে যাই। আমাদের “ত্রাটক” সাধনার উদ্দেশ্য হচ্ছে সেটাই যা আমাদের অভ্যন্তরে লুকায়িত শক্তিকে আমাদের প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহার করার অবস্থায় নিয়ে আসবে। আমরা যদি এটা ভুলে যাই যে আমাদের এই মানব জন্ম নেওয়া কোন সাধারন ব্যপার তবে আমরা ভুল করবো, আমাদের এই পৃথিবীর মুখ দেখতে লক্ষকোটি জিবনকে (ভ্রুন) ডিঙ্গিয়ে তারপর আমরা আজ আমরাতে পরিনত হয়েছি। আমরা যারা স্রষ্টাকে বিশ্বাষ করি তারা একটু গভির ভাবে ভাবলেই বুঝতে পারবো এই মানুষ্যরুপ যিনি দিয়েছেন যিনি আমাদের এই ব্রহ্মান্ড জয় করার মেধা দিয়েছেন তিনি কি আমাদের মাঝে কোন শক্তিই দিয়ে পাঠায়নি।। অবশ্যই দিয়েছে- অনাদি কাল হতে আমাদের যান্ত্রিক যুগের পূর্বেও আমরা আমাদের এই আধ্যাতিক শক্তির ব্যবহারে নানা বিধ অসাধ্য অকল্পনীয় কর্ম সাধনের কথা আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শুনে আসছি। এটা কোন গাল গল্প নয়, কোন লোক গাথাও নয়। আমরা স্যাটেলাইট যুগে বাস করি আমরা এখন পৃথিবীর আনাচে কানাচের খবর মুর্হুতেই জানতে পাই, আজও আমরা দেখি তিব্বতের সাধুদের কথা, ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন জাতীর কথা আফ্রিকা ইউরোপের বিভিন্ন টাবুর প্রকৃয়া ও তার ব্যবহারের কথা। এসব কিছু তো আর মিথ্যা নয়। তবে হ্যা ম্যাজিক মানুষকে বিষ্মিত করার জন্য দেখানো হয়- সাধনা নয়। সাধনা মানুষের লুকায়িত শক্তি যা তার নিজ প্রয়োজন পূর্তির জন্য ব্যবহৃত হয়। সাধনা আর ম্যজিক এক বিষয় নয়। আপনি সাধনা দ্বারা আত্ব অলৌকিক শক্তি অর্জন করে তা জন সম্মূখ্যে শক্তি প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করতে পারবেন না। আপনি তা নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন কিছু উদাহরন দেয়া যাক- বর্তমানে ইসলামী তন্ত্রে বহুল ভাবে ব্যবহৃত “পরী সাধনা” ইহা বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশেই অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সাধনা কিন্তু এর দ্বারা সাধক কি প্রাপ্ত হন? পরী সাধনা করলে কি সে কোহে কাফের পরীকে বিয়ে করতে পারে ? তাকে দিয়ে অজশ্র সম্পদ হাসিল করতে পারে? তা কিন্তু নয়। পরী সাধনা দ্বারা আপনার ভৌতিক নারী চাহিদা পূর্ন হতে পারে, আপনার অনেক অজানা বিষয় জানতে পারেন, আপনি ভবিষ্যতের কিছু ইঙ্গিত পেতে পারেন এই মাত্র। নারী চাহিদা পূরনের ক্ষেত্রেও আমাদের অনেক সাধকের মাঝে কিছু ভিন্নতা রয়েছে যেমন কেউ ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্নঘোরে তার সাখ্যাৎ পেয়ে থাকে, কেউ জাগ্রত অবস্থায় কোন নারীকে অনাকাঙ্খীত ভাবে পেয়ে থাকে, আবার কেউ কাঙ্খীত নারীকেও পেয়ে থাকে তবে তা সম্পূর্ন ভাবেই জগতের অন্য সকলের চোখের আড়ালেই রয়ে যায়। তবে এ বিষয় সাধক কখনো কাউকে বলতে পারে, না কেউ তা দেখতে পায়। তবে এখানে একটি বিষয় “স্বপ্ন সেটা যা আপনাকে ঘুমাতে দেয় না, স্বপ্ন সেটা নয় যা আপনি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখেন”। অনেকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে যানা যায় যে কেউ কেউ পরী সাধনার দ্বারা তাদের রাজ্যেই বিচরন করে এবং সে তাকে এ জগতেই নিয়ে এসে রাখে, এবং তা এতোটাই জীবন্ত যে প্রতিদিনের স্বাভাবিক সকল মানুষের মতই সে তার কাছে বাস্তব। তবে সবার ক্ষেত্রে একই নয়।একজন সাধকের বানীতে যানা যায় যে সাধনার পর থেকে তার আহ্বান ছাড়াই জাগ্রত অবস্থায় তার রুমে প্রতিদিন একটি অপরুপ নারীর আগমন ঘটতো এবং সন্ধ্যা হতে সকাল পর্যন্ত তার যাবতীয় সংসারে সকল কর্ম করে সে বিদায় নিত। মেয়েটিকে সে চিনতো তার আসে পাসের’ই কেউ কিন্তু কোন বাড়ী বা কতদুরে থাকে সেটা সে কখনই দিনের বেলায় খুজে পাই নি। এমন অনেকের অনেক রকম অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই সাথে যে সকল সাধক এই বিষয় তার কোন কাছের লোকের কাছেও ব্যক্ত করেছে গুরু ছাড়া সে চিরতরে তাকে হারিয়েওছে।। এমনি ভাবে প্রতিটি সাধনার গোপনিয়তাই তার শক্তি ও সার্থকতা। বিজ্ঞানে এমন হাজারো অতিপ্রাকৃত বিষয় রয়েছে যা প্রমান সাধ্য নয়, এবং কখনই তা প্রমান করা সম্ভবপর হবেও না, যেমন অনেক সাধক গন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বিচরন করে, তার প্রয়োজন পূরন করতে সে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চোখের পলকেই ঘুরে আসে কিন্তু তা প্রমান করা না তো সাধকের পক্ষে না তো বিজ্ঞানের পক্ষে সম্ভব, হিপনোটাইজের মাধ্যমে এক ব্যক্তি অন্য আরেকজন ব্যক্তিকে সম্পূর্ণরুপে অপ্রকৃতিস্থ করতে পারে কিন্তু সেটা কোন ধরনের রেডিয়েন্স ব্যবহার হচ্ছে তা বিজ্ঞানের জ্ঞ্যানের বাইরে। ট্যলিপ্যাথির মাধ্যমে এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির সাথে পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে বিজ্ঞান এটা চর্চা করছে দির্ঘদিন যাবৎ কিন্তু সেটা কোন শক্তি বলে ঘটে থাকে এবং কোন রেডিয়েশনে তা বিজ্ঞানের জ্ঞ্যানের বাইরে রয়েছে। অটো সাজেশনের মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে ১ বছর পরের কমান্ড প্রদান করা সম্ভব যা নির্দিষ্ট সময় তার অবচেতন মনেই তা করে ফেলে কিন্তু সেটা কি ভাবে ঘটে তা প্রমান সম্ভব নয়। তেমনি “ত্রাটক” সাধনা দ্বারা আমরা আমাদের মাঝে লুকায়িত সেই শক্তিকে ব্যবহার করার উপযোগি করে থাকি যা একজন সাধরন মানুষকে সুপার ন্যাচেরাল হিউম্যানে রুপান্তরিত করে থাকে। তবে এর মানে এই নয় সে জন সম্মুখ্যে হাত উপরে তুলে সুপার ম্যানের মত উড়ে যাবে। তবে এমন কিছু সে করতে পারবে যা সে নিজেও কখনো স্বপ্নযোগে বা কল্পনাতে ভাবতে পারেনি। “ত্রাটক” সাধনার একজন মানুষ যে কোন ধরনের অসাধ্যকেই সাধন করতে পারবে তার প্রাকটিস ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত চর্চায়। সে তার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তার জীবনকে উপভোগ করতে পারবে, তার সমস্ত চাওয়াকে পাওয়াতে রুপান্তরিত করতে পারবে। চলবে………..
ব্যবহার বিধি
- শুরুতে অল্প সময় অনুশীলন করুন এবং চোখে চাপ দেবেন না।
- চোখ জ্বালা, মাথা ঘোরা বা অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করুন।
- কম আলোতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে অনুশীলন করুন।
- চোখ জ্বালা, মাথা ঘোরা বা অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করুন।
- কম আলোতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে অনুশীলন করুন।